আইনে নিষিদ্ধ হলেও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি হয়েছে বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিন, স্থানীয়ভাবে যা শুশুক নামে পরিচিত। আজ শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে গাউছিয়া মৎস্য আড়তে শুশুকটি ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
সকালে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের সঙ্গে একটি মাঝারি আকারের শুশুক বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। নিলামে সর্বোচ্চ দর হাঁকা স্থানীয় এক মৎস্যশিকারি সেটি কিনে দ্রুত বাজার ছেড়ে যান। একই সময় বাজারে দুটি বাগাড় মাছও বিক্রির জন্য তোলা হয়েছিল।
আড়তের স্বত্বাধিকারী রওশন মোল্লা জানান, শরিফুল নামের এক জেলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ফাঁসন জালে শুশুকটি পান। এর ওজন ১৫ থেকে ১৬ কেজি। নদীতে ‘বাচা’ মাছ শিকার করেন, এমন কয়েকজনের কাছে এটি বিক্রি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শুশুক দিয়ে ব্যথানাশক তেল তৈরি করা হয়। এ বছর জেলেদের জালে এটিই প্রথম শুশুক ধরা পড়েছে বলে তিনি জানান।
বাজারে উপস্থিত গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম প্রকাশ্যে শুশুক বিক্রির বিষয়টি নজরে আনা হলে বলেন, এটি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের বিষয়, এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের কিছু করার নেই। রাজবাড়ীর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব-উল হক বলেন, শুশুক বা বাগাড় জাতীয় প্রাণী শিকারের ক্ষেত্রে বন্য প্রাণী ও সংরক্ষণ আইনে বাধা থাকলেও মৎস্য বিভাগের বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই; চাইলে বন বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে জেলেদের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।
গোয়ালন্দ উপজেলা বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্টার আজিজুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী শুশুক ও বাগাড় শিকার, হত্যা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ। এসব প্রাণী শিকার ও বিক্রি বন্ধে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় সাইনবোর্ড টানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। গোয়ালন্দের ইউএনও সাইফুল হুদা বলেন, শুশুক বা বাগাড় শিকার, হত্যা ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আজ শুশুক বিক্রির বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না; ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের লাল তালিকায় গাঙ্গেয় ডলফিন বিপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত।