শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬

পোশাকশিল্পে অস্থিরতার সন্দেহে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ: রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীনদের নামও তালিকায়, উদ্বেগে ব্যবসায়ী মহল

এনবিআরের জব্দ করা হিসাবের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর মালিকেরাও আছেন; কয়েকটি গ্রুপ বলছে, বেতন দিতে সমস্যা হচ্ছে।

তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যেসব ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে, সেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর নামও রয়েছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছেন, তালিকায় এমন কয়েকজনের নামও আছে, যাঁদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

ব্যবসায়ী সূত্রগুলো জানায়, শেল্‌টেক গ্রুপ ও এনভয় লিগ্যাসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ এবং তাঁর মা রাশিদা আহমেদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। তানভীর আহমেদের বাবা কুতুবউদ্দিন আহমেদ একসময় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীর এনভয় গ্রুপের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। সাড়ে চার বছর আগে ব্যবসায়িকভাবে আলাদা হলেও সেই সূত্র ধরেই এ পরিবারের হিসাব জব্দ হয়েছে বলে জানা গেছে। তানভীর আহমেদ বলেন, যাচাই-বাছাই করে তালিকা করলে হয়রানির ঘটনা ঘটত না। তাঁর ভাষায়, অভিযোগ থাকলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা যেত এবং তাঁরা সহায়তা করতেন।

স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব তলব এবং প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ আটজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসনাত মোশাররফ বলেন, তাঁদের নাম অন্যায্যভাবে তালিকায় দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। অন্য অনেক কারখানার পাশাপাশি তাঁদের কারখানার শ্রমিকেরাও আন্দোলনে নামলেও এর অর্থ এই নয় যে মালিকেরা শ্রমিকদের উসকানি দিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তুসুকা গ্রুপের ১০টি প্রতিষ্ঠানের হিসাব তলব এবং নয়জনের হিসাব জব্দ করা হয়েছে। গ্রুপের একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের মাধ্যমে কর্মীদের বেতন পাঠানো হলেও হিসাব জব্দের কারণে একাংশ বেতন পায়নি। কারখানায় ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাঁর দাবি, একদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে এক থেকে দেড় কোটি টাকা ক্ষতি হয়। এ ধরনের উদ্যোগে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তালিকায় আরও রয়েছে ওয়েল গ্রুপ, গিভেন্সি গ্রুপ ও নিপা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ও মালিকদের নাম। এর মধ্যে কয়েকজনের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা ব্যবসায়ী সূত্রগুলো জানিয়েছে; কয়েকজন বর্তমানে আত্মগোপনে বা কারাগারে আছেন বলেও জানা গেছে। এখানে উল্লিখিত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ আনার আগে ভালোভাবে তদন্ত করা উচিত; এরপর ব্যবস্থা নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। তিনি জানান, তাঁরা এখনো পুরো তালিকা পাননি; তালিকা পেলে বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করবেন।