বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

ইকবাল সোবহান চৌধুরী যাত্রাবাড়ীর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছাড়া পেলেন রাজীব ঘোষ

ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর টেলিভিশন চ্যানেলের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহানকে ২০২৪ সালের একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ; মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে।

রাজধানীর মহাখালীতে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয় থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যাঁদের নিয়ে গিয়েছিল, তাঁদের একজনকে জুলাইয়ের একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আরেকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও ওই টেলিভিশন চ্যানেলের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু না পাওয়ায় চ্যানেলের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে মুচলেকা নিয়ে মধ্যরাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইকবাল সোবহানকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন ডিবি প্রধান। তখন তিনি বলেছিলেন, ইকবাল সোবহান বিকেলে অফিসে যাওয়ার পর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তা এড়াতে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। সেখান থেকে আরও একজনকে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চ্যানেলটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ইকবাল সোবহান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও তিনি মাঝেমধ্যে প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতেন। চ্যানেলের অ্যাসাইনমেন্ট সম্পাদক মুক্তাদীর অনিক বলেন, ইকবাল সোবহান বেলা দুইটার দিকে অফিসে আসার পর তাঁকে ডিবির গাড়িতে করে নিয়ে যেতে দেখেন তিনি। কেন নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তখন কিছু জানানো হয়নি। তাঁর ভাষ্য, রাজীব ঘোষকে নেওয়ার সময় ডিবির সদস্যরা বলেছিলেন, চা খাওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে। তাঁকেও কার্যালয়সংলগ্ন সড়ক থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইনের খসড়া পর্যালোচনা-সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে এ বিষয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ইকবাল সোবহান আটক হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।

রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও ঢাকা রিপোর্টার্স ক্লাব (ক্র্যাব)। মামলার পরবর্তী ধাপ, অর্থাৎ ইকবাল সোবহানকে আদালতে হাজির করার বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত জানায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত নয়।