শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

পদ্মা সেতু হয়ে প্রথমবার রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চালান, নিরাপত্তার কারণে পাল্টানো হয়েছে পথ

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে এবার বিকল্প পথে রাশিয়া থেকে আনা পারমাণবিক জ্বালানি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

রাশিয়া থেকে আনা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু হয়ে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শুক্রবার সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি বিশেষায়িত লরি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস টুটল জানান, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়েছে।

এবার গাড়িবহরটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে পাকশীর লালন শাহ সেতু পেরিয়ে রূপপুরে পৌঁছায়। এর আগে এই পথ পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহার করা হয়নি। আগের চালানগুলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে আসত।

এ চালানসহ প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটিসহ মোট পাঁচটি চালান এ পর্যন্ত প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা আছে। সব মিলিয়ে নয়টি চালানে এই জ্বালানি দেশে আনা হবে।

রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর কেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রথম ইউনিটে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে; গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান এই কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন। এ পর্যায়ে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে যন্ত্রপাতি, টারবাইন-জেনারেটর এবং পরিচালন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নভেম্বরেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে হবে।