রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আলোচনার আগে দলটির বিচার নিশ্চিত করতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

৭ নভেম্বর উপলক্ষে এনসিপির আলোচনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ বিএনপির ইতিহাস-ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) পুনর্বাসনের আলোচনার আগে দলটির বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান: বর্তমানের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত অপকর্মের বিচার নিশ্চিত না করেই জিয়াউর রহমান দলটিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলেন। এবার সেই পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে জন্য আগে বিচারের দাবি জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বিচার শেষে কারা অপরাধী, কারা অপরাধী নন, তা নির্ধারণ করবে আদালত ও বিচারব্যবস্থা। এরপর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

বিএনপি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব হিসেবে উদ্‌যাপন করে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, দলটির ভাষ্য অনুযায়ী ওই দিন সৈনিকদের অংশগ্রহণ ও সাধারণ মানুষের সমর্থনে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা হয়েছিল, এতে আপত্তির জায়গা নেই। কিন্তু চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সৈনিকেরাও অংশ নিয়েছিলেন; এত বিস্তৃত জনসম্পৃক্ততা থাকার পরও বিএনপি একে গণ-অভ্যুত্থান, এমনকি বিপ্লব হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে চায় না। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা বিবেচনা করে বিএনপি ইতিহাসের ঘটনাগুলো নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ‘বাকশাল টু’ থেকে মুক্তি পেয়েছে।