বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য, আসছে বিশেষ আইন: জ্বালানিমন্ত্রী

বুয়েটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুতের সব প্রযুক্তি ও উপকরণের শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে এবং ছাদে প্যানেল বসাতে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মঙ্গলবার এ কথা জানান। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে তিন দিনের এ আয়োজন করেছে। এটি শুরু হয়েছে সোমবার।

মন্ত্রী বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অত্যধিক নির্ভরতার কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব আমাদের ওপর পড়েছে। ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আমরা “স্পেশাল রিনিউয়েবল এনার্জি ল” তৈরি করছি, যা ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সৌরবিদ্যুতের যাবতীয় প্রযুক্তি ও উপকরণের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসাতে সরকারি প্রণোদনা ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের পাওয়ার গ্রিড পুরোপুরি আধুনিক না হওয়ায় পারমাণবিক, জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য উৎসের বিদ্যুৎ সমন্বয় করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) গ্রিড আধুনিকায়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, দেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর, যা জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম শুল্কমুক্ত করার পদক্ষেপকে তিনি স্বাগত জানান এবং জ্বালানি রূপান্তরে তরুণ ও নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন। বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে; সাশ্রয়ী পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও নীতিনির্ধারকদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

উৎসবের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মেলায় বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও ব্যাটারি স্টোরেজ নিয়ে নিজেদের প্রকল্প প্রদর্শন করেছেন। বুধবার সমাপনী দিনে ন্যায্য রূপান্তরের জন্য জ্বালানিনীতি ও সুশাসন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থায়ন ও বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবন ও অবকাঠামো নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ও অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।