শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

পেট্রাপোলে ৭০০–৭৫০ পণ্যবাহী ট্রাকের জট, বেনাপোলে ঢুকতে তিন থেকে পাঁচ দিন লাগার অভিযোগ আমদানিকারকদের

দুর্গাপূজার ছুটি ও সার্ভার বন্ধ থাকায় জট তৈরি হয়েছে; বেনাপোল কাস্টমসের কর্মকর্তারা বলছেন, পেট্রাপোলে ট্রাকের সংখ্যা ৩৫০–এর মতো।

ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ৭০০ থেকে ৭৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকেরা। শিল্পকারখানার কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এসব ট্রাকের বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করতে তিন থেকে পাঁচ দিন লাগছে এবং এতে তাঁদের অতিরিক্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে বেনাপোল কাস্টমসের কর্মকর্তারা বলছেন, পেট্রাপোলে এখন ৩৫০টির মতো ট্রাক আছে, যা স্বাভাবিক সময়ের মতোই।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ছয় দিনের ছুটির পর গত শনিবার থেকে দুই দেশের এ দুটি স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। এ ছাড়া সাইবার হামলার ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সার্ভার দুই দিন বন্ধ রাখা হয়। এর ওপর বেনাপোল স্থলবন্দরে ওয়েট স্কেলে পণ্যের ওজন মাপার সার্ভার বন্ধ থাকায় জট আরও বেড়ে যায়।

দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বেনাপোল কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা জানান, পূজার ছুটির সময় পেট্রাপোলে বাংলাদেশমুখী প্রায় ১ হাজার ৪০০ ট্রাক আটকে পড়েছিল। বন্দর খোলার পর কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পচনশীল ৭৭টি ট্রাকের পণ্য খালাস করা হয়।

বেনাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর তিন দিনে ১ হাজার ১৫০টি ট্রাক এসেছে; এখনো প্রায় ৭৫০টি ট্রাক বেনাপোলে ঢোকার অপেক্ষায়। কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দিনের প্রথম ভাগে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত করার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি গ্যাস ও জিলেটিন ক্যাপসুলের মতো পচনশীল পণ্য খালাসের জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে ২ নম্বর গেট খুলে দিতে হবে বলে তিনি মত দেন। দুই পারের কার্গো ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের নম্বর পরস্পরের মধ্যে আদান-প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী মুঠোফোনে বলেন, দুর্গাপূজার ছুটির কারণে ১ হাজার ৪০০ ট্রাক আটকে পড়েছিল; পরে বাংলাদেশের সার্ভার জটিলতায় দুই দিন পণ্য প্রবেশ ব্যাহত হয়। বাণিজ্য গতিশীল করতে দুই দেশের উভয় পাশের অবকাঠামো আরও আধুনিক ও সহজ করার তাগিদ দেন তিনি। তিনি জানান, আগে দুই পারের ব্যবসায়ীদের ‘কারপাস’ নামে বিশেষ পাস দেওয়া হতো, যা দিয়ে তাঁরা সহজে অন্য পারের বন্দরে গিয়ে কাগজপত্রের কাজ সারতে পারতেন; কিন্তু এখন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তা বন্ধ রয়েছে।