সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

ভালুকায় চুরির ক্ষোভে ফেসবুক লাইভে সরকারবিরোধী মন্তব্য, উত্তেজনার মধ্যে নারী ব্যবসায়ী থানায়

ময়মনসিংহের ভালুকায় দোকানের তার চুরির পর ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এক পারলার-মালিক; স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের জমায়েতের মুখে রোববার রাতে তাঁকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ফেসবুক লাইভে সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করার পর উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মুখে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার ওই নারী ব্যবসায়ীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি এলাকার একটি বিউটি পারলারের মালিক। রোববার বেলা দুইটার দিকে তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করা হয়, যার দৈর্ঘ্য ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ড। ভিডিওতে তাঁকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’

ভিডিওতে তিনি বলেন, প্রায় ১৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন, কিন্তু এ বছর একের পর এক চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত মাসে তাঁর একটি দোকান থেকে এসির তার চুরি হয়। রোববার এসে দেখেন, দুটি শোরুমের বৈদ্যুতিক তার এবং একটি শোরুমের এসির তার কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। আশপাশের আরও কয়েকটি দোকানের তারও চুরি হয়েছে।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ওই নারীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। ভালুকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইব্রাহিম খলিল মধ্যরাতে বলেন, দল নিয়ে কটূক্তি করায় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীকে প্রতিহত করতে চেয়েছিলেন; খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সোমবার সকালে বলেন, ঘটনাস্থলে দেড় থেকে দুই শ লোক জড়ো হয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই নারীকে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করেননি। তাঁর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি; কোনো পেন্ডিং মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর সম্ভাবনা বেশি, তবে কোন মামলায় তা ঠিক হয়নি।

ওসি আরও বলেন, রাগের মাথায় অনেকে নানা কথা বলে ফেলেন; তাঁর বক্তব্যও সে রকম কি না এবং এটিকে আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তাঁকে ছেড়ে দিলে এলাকায় কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, সেটিও ভাবতে হচ্ছে। উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।