রাজশাহীর বাগমারায় পারিবারিক বিরোধ মেটানোর আলোচনার মধ্যে এক দম্পতিকে জিম্মি করে মারধর, ভয়ভীতি দেখানো এবং জোর করে ৫২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার শিকার ৩৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রাজশাহীর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পদ্মা টাইমস সোমবার এ খবর দিয়েছে। এ প্রতিবেদন পদ্মা টাইমসের খবর এবং তাতে উদ্ধৃত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি; পুলিশের আলাদা কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে যা বলা হয়েছে
লিখিত অভিযোগের বরাতে পদ্মা টাইমস জানায়, স্ত্রীর সঙ্গে ওই ব্যক্তির পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ২৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দম্পতি বাগমারার মোহনপুর গ্রামে স্ত্রীর বড় ভাইয়ের বাড়িতে ছিলেন। সেখানে আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে বিরোধ মেটানোর আলোচনা চলছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহনপুর গ্রামের ছয়জন সেখানে আসেন এবং একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এরপর তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেওয়াসহ নানা ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়। খবর পেয়ে তাঁর ৩০ বছর বয়সী ছোট ভাই ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মারধরের একপর্যায়ে ছোট ভাইয়ের কাছে থাকা ৫২ হাজার টাকা অভিযুক্তরা নিয়ে যান। অভিযোগে বলা হয়েছে, লোক জড়ো করে ‘মব’ সৃষ্টি করে টাকাটা নেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ঘটনার পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মীমাংসার উদ্যোগ নিলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দেন। মামলা-মোকদ্দমা ও আইনি হয়রানির ভয় দেখিয়ে পরিবারটিকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে এবং সুযোগ পেলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন। আহত দুই ভাই প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।
অভিযুক্ত পক্ষ ও পুলিশের বক্তব্য
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে পদ্মা টাইমসের প্রতিবেদক তাঁদের একজনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ততার কারণে কথা বলতে পারেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে আসেনি।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম পদ্মা টাইমসের প্রতিবেদনে বলেছেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে কি না, কিংবা কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।