রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: অপরাধ, পদ্ধতি ও মরদেহ নিয়ে ছয় প্রশ্নের জবাব চেয়ে সৌদিকে চিঠি

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক পত্র দিয়ে দুই নাগরিকের দণ্ড কার্যকরের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অপরাধ কী ছিল, দণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে, মরদেহ এখন কোথায় এবং বিচারে তাঁদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় পাঠানো এক কূটনৈতিক পত্রে এসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কর্মকর্তারা জানান, ওই দিন জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে তিনি কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করেন। জানা গেছে, মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৪ অক্টোবর। বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি হিসেবে এই দণ্ড দেওয়া হয়।

চিঠিতে ছয়টি বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি, ঘটনার সময় ও স্থান, গ্রেপ্তারের তারিখ, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত রায়ের কপি এবং দণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে—প্রকাশ্যে তলোয়ারের আঘাতে শিরশ্ছেদ, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে। এ ছাড়া মরদেহ কোথায় আছে, তা বাংলাদেশে পাঠানো হবে নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে এবং তদন্ত ও বিচারের সময় তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও করা হয়েছে।

ঢাকার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মৃত্যুদণ্ডের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে ঢাকায় কিংবা জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। বিশেষ করে বিচারের সময় দুজনের আইনি প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না, তা মিশন নিশ্চিত নয়। কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কারাবন্দী ও দণ্ডিত বাংলাদেশিদের তালিকা দেয়। সেপ্টেম্বরের তালিকায় এই দুজনের নাম ছিল। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ‘ব্যভিচার’, অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অপরাধ। তবে তালিকায় শাস্তির তথ্য ছিল না। ফলে মৃত্যুদণ্ডের কথা না জেনে তাঁদের কনস্যুলার সেবা দিতে পারেনি বাংলাদেশ।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তালিকার অভিযোগের সঙ্গে এই বিবৃতি কীভাবে মেলে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কনসাল জেনারেল বৈঠকে জানতে চান, কেন তথ্য অসম্পূর্ণ রাখা হলো। তাঁদের ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য আগে জানা থাকলে মিশন দুজনের সুরক্ষায় আইনি সহায়তা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে পারত। সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাবের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ।