শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

ধান-আখ-আমের বাইরে নতুন পথ: রাজশাহীর চারঘাটে প্রায় ২৫০ হেক্টরে মাল্টা, স্ট্রবেরি, আঙুর ও আনার চাষ

উৎপাদন খরচ বাড়া আর বাজারদরের ওঠানামায় প্রচলিত ফসলে লাভ কমায় চারঘাটের কৃষকেরা বিকল্প ফল ও উচ্চমূল্যের সবজির দিকে ঝুঁকছেন।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ধান, আখ ও আমের প্রচলিত চাষের বাইরে মাল্টা, স্ট্রবেরি, আঙুর, কমলা, আনার, তুলা ও উচ্চমূল্যের সবজির আবাদ বাড়ছে। কম খরচে বেশি লাভ, জমির বহুমুখী ব্যবহার ও বাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বিকল্প ফসলের চাষ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে কৃষকদের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

কৃষিপ্রধান এই উপজেলার অধিকাংশ কৃষক দীর্ঘদিন ধরে ধান, আখ ও আম চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি এবং সার-বীজের দাম বাড়ায়, আবার বাজারে ফসলের দামের ওঠানামার কারণে প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মাটি, আবহাওয়া, পানির প্রাপ্যতা ও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় অনেকে বিকল্প ফসলে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত ফসলের বাইরে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে মাল্টা, স্ট্রবেরি, আঙুর, কমলা, বারোমাসি আম, মিষ্টি আমড়া, তুলা ও উচ্চমূল্যের সবজির চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি পলিনেট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের উদ্যোগও গড়ে উঠেছে।

এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ চারঘাটের ফতেহপুর গ্রামের হানিফ মণ্ডল। উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে ২০১৯ সালে তিনি প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে তোলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত হানিফ এগ্রোফার্ম ও নার্সারিতে মাল্টার পাশাপাশি কমলা, আঙুর, আতা, আনার ও আম চাষ হচ্ছে। ফল বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিক্রি করেও আয় করছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগ দেখে অন্য তরুণেরাও ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। চারঘাটে বাণিজ্যিকভাবে আনার চাষেও সাফল্য আসছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, কৃষিকে লাভজনক করতে সঠিক ফসল নির্বাচন, উৎপাদন খরচ ব্যবস্থাপনা ও বাজার সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। তাঁর মতে, চারঘাটের মাটি ও আবহাওয়া বিকল্প ফসল চাষের উপযোগী। এসব ফসলের আবাদ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।