বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: আবদুল আজিজের ছেলে মিন্টু আবার দুই দিনের রিমান্ডে, আরও দুজন কারাগারে

নাটোর-৪ আসনের আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত দুই দিন মঞ্জুর করেছেন; ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার হয়েছে।

নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান ওরফে মিন্টুকে আবারও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মিন্টু নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের আবদুল আজিজের ছেলে। সোমবার গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, আগে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং রিমান্ডে নেওয়ার আগে ও পরে আসামির চিকিৎসা পরীক্ষা করানো ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণের আদেশ দেন। বর্তমানে মিন্টু ডিবির হেফাজতে আছেন।

ডিবির কর্মকর্তা আরও জানান, প্রথম দফা রিমান্ডে মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আলামিন হোসেন (২৬) ও আনিসুর রহমান (২৫)-কে আটক করা হয়। পরে তাঁদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি তথ্য তিনি দিতে চাননি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নীল-সাদা রঙের নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলটি রোববার রাতে গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রবাসী রাসেল হোসাইন ও মিন্টুকে ঘিরে পাওয়া সব সন্দেহ যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলেও যোগ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন শাকিল ইসলাম। তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়া হলেও তিনি মারা যান। এর আগে গত ২৭ অক্টোবর আদালত মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে ৩০ অক্টোবর আবার আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড শুনানি মুলতবি রেখে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

মিন্টু এ মামলার অভিযুক্ত; আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি।