রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬

নওগাঁর বদলগাছীতে ১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষক, অভিভাবকদের ক্ষোভ; তদন্তের নির্দেশ

কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিচার চেয়েছেন অভিভাবকেরা; শিক্ষক বলছেন, চুল বড় হওয়ায় কেটেছেন।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পাঠদান চলাকালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর চুল এলোমেলোভাবে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে শোনা যায়।

এক অভিভাবক বলেন, তিনি বাড়িতে ছিলেন না; ফিরে দেখেন তাঁর ছেলের মাথার চুল খোপ খোপ করে কাটা, অথচ চুল স্বাভাবিকই ছিল। রোববার এ নিয়ে বিদ্যালয়ে ঝামেলাও হয়েছে বলে জানান তিনি। আরেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছেন এবং প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। অভিভাবকেরা বলেন, তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের চুল অনেক বড় হয়ে চোখের ওপর এসে পড়ছিল, দেখতে খারাপ লাগছিল; তাই কয়েকজনের চুল তিনি কেটে দিয়েছেন। তবে আগে মারধরের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা তিনি অস্বীকার করেন।

ঘটনা জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, কেন শিক্ষার্থীদের চুল এভাবে কাটা হলো তা তদন্ত করতে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।