বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

জর্ডানের গির্জায় হামলার জবাবে সিরিয়ায় বিমান অভিযান: দারআয় সাতজন নিহত বলছে দামেস্ক, যৌথ নিরাপত্তা কমিটি গঠনে সম্মত আম্মান-দামেস্ক

কারাকে গির্জায় হামলায় নয়জন নিহত হওয়ার পর জর্ডান সিরিয়ার দক্ষিণে বিমান হামলা চালায়; সিরিয়া সেটিকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বললেও দুই দেশ যৌথ কমিটি গঠনে একমত হয়েছে।

জর্ডানের একটি গির্জায় হামলায় নয়জন নিহত হওয়ার জবাবে দেশটি সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে। সিরিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হামলায় দারআ প্রদেশে সাতজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে সিরিয়া কড়া প্রতিবাদ জানালেও পরে দুই দেশ ঘটনার তদন্তে একটি যৌথ নিরাপত্তা কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে।

গত শুক্রবার জর্ডানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কারাক গভর্নরেটের হামুদ গ্রামে একটি গ্রিক অর্থডক্স গির্জায় শোকাহতদের ওপর হামলা হয়। জর্ডানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তরের তথ্যে ওই হামলায় নয়জন নিহত হন; আহত হন অন্তত ৩৪ জন। কোনো গোষ্ঠী এখনো দায় স্বীকার করেনি। সোমবার ভোরে কারাকে গোলাগুলির পর একই পরিবারের তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা সবাই আহত হন, কোনো নিরাপত্তা সদস্য আহত হননি। শুরুতে সরকারি কর্মকর্তারা বলেছিলেন, সন্দেহভাজনদের বাইরের কোনো পক্ষের সঙ্গে সংযোগের ইঙ্গিত নেই; তবে সোমবার রাতে জর্ডান জানায়, তারা সিরিয়াভিত্তিক ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ সঙ্গে যোগসূত্র পেয়েছে।

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত গোষ্ঠীগুলোর দক্ষিণ সিরিয়ার ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়েছে। বাহিনী গোষ্ঠীগুলোর নাম, অবস্থান বা হতাহতের সংখ্যা জানায়নি। মঙ্গলবার জর্ডান সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-মোমানি বলেন, অভিযানে দায়েশের (আইএস) ২০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছে এবং একটি বড় অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা ও হুমকির বিষয়ে জর্ডানের ‘ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গিয়েছিল’; অভিযান মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হয়েছে। বেসামরিক হতাহতের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, যেখানে বেসামরিক মানুষ থাকার তথ্য ছিল, সেসব জায়গায় হামলা এড়ানো হয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যে বলা হয়, দারআ প্রদেশের একাধিক স্থানে হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রাদেশিক স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, মুজাইরিবে আহত দুজনকে তাফাস জাতীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দারআ শহরের তারিক আস-সাদ এলাকার ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি স্প্লিন্টারের আঘাতে মারা যান।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলাকে ‘কোনো পূর্ব সমন্বয় ছাড়া আকাশসীমার অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন’ ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানায় এবং ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানায়। পরে মঙ্গলবার রাতে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি ও জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির টেলিফোন আলাপের পর যৌথ বিবৃতিতে একটি যৌথ নিরাপত্তা কমিটি গঠনের ঘোষণা আসে। কমিটি হামলার বিস্তারিত ও পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ের কাঠামো তৈরি করবে। সাফাদি বেসামরিক মৃত্যুতে ‘গভীর দুঃখ ও বেদনা’ প্রকাশ করেন এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুই মন্ত্রীই সীমান্তে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানসহ অভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সরাসরি নিরাপত্তা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। গির্জায় হামলার পর জর্ডানজুড়ে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে, রাজধানী আম্মানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং মুসলিম ও খ্রিস্টানেরা একসঙ্গে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ করেছেন।