শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

এনসিপি-জামায়াত জোটে দূরত্ব বাড়ছে: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী, বিচ্ছেদের আলোচনা অস্বীকার দুই দলের

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে আলাদা মেয়র প্রার্থী ঘোষণার পর ১১ দলীয় ঐক্যের দুই শরিকের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও দুই দলের নেতারা জোটে সংকটের কথা অস্বীকার করছেন।

১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ভেতরে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলের আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী সমঝোতা নিয়ে দুই দলের মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসায় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এনসিপির একাধিক সূত্রের দাবি, দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নিতে আগ্রহী ছিল, কিন্তু জামায়াত প্রতিটি শরিক দলকে আলাদাভাবে নির্বাচন করার পক্ষে। এনসিপির এক যুগ্ম আহ্বায়কের ভাষ্য, দলের ভেতরে জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং অধিকাংশ নেতা স্বতন্ত্রভাবে এগোনোর পক্ষে মত দিচ্ছেন। দলটির অনেক নেতা মনে করেন, জোটে থাকলে এনসিপির স্বতন্ত্র পরিচয় ও সাংগঠনিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মতবিরোধের সবচেয়ে বড় প্রকাশ ঘটেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী নিয়ে। এনসিপি ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে আবু সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনেও এনসিপির মেয়র প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দূরত্বের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে সংসদের প্রথম অধিবেশনে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বিল নিয়ে দুই দলের ভিন্ন অবস্থানের কথা বলা হচ্ছে। বিলে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জামায়াত আপত্তি জানালেও এনসিপির সংসদ সদস্যরা লিখিতভাবে বিলটিতে সমর্থন জানান। এ ছাড়া গত শনিবার ঢাকা-খুলনা লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতিও আলোচনার জন্ম দেয়; জোটের কয়েকজন নেতা এর কারণ হিসেবে নিরাপত্তার বিষয় উল্লেখ করেছেন।

তবে দুই দলের শীর্ষ পর্যায় বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নাকচ করেছে। এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার বলেছেন, জোট আগের মতোই আছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি দল এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; ভবিষ্যতে সমঝোতার আলোচনার সুযোগ থাকলেও আপাতত দলটি নিজের শক্তিতে ভালো ফলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, স্থানীয় নির্বাচনে কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতা না করে প্রত্যেকে নিজস্বভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমও দুই দলের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্বের কথা অস্বীকার করেছেন।

এদিকে এনসিপি সাংগঠনিক বিস্তারের লক্ষ্যে আলাদা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, চার দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে।