রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবিতে তাঁরা ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
শুক্রবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে কলেজের মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা এসব ঘোষণা দেন। এর আগে কলেজের সামনের সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করায় নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয় দাবি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে অধ্যক্ষের পদত্যাগ-সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
আন্দোলন শুরু হয় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন এবং তাঁকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। লালবাগ থানার ওসি জামিল হোসেন জানান, অধ্যক্ষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানালে রাত ১১টার দিকে পুলিশ কলেজের ভেতরে ঢুকে তাঁকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, এ সময় পুলিশের অভিযানে লাঠিচার্জ করা হয় এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁরা পুলিশের বিরুদ্ধে হাতুড়িপেটা ও এক নারী শিক্ষার্থীর চুল-হিজাব ধরে টানাটানির অভিযোগও করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের একজন শম্পা আখতার অভিযোগ করেন, কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় অধ্যক্ষ দুই ছাত্রীর আসন বাতিল করেন এবং ক্ষমা চাওয়ার পরও অডিটোরিয়ামের বিল বাবদ সাড়ে ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেসা এসব অভিযোগকে মিথ্যাচার বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, রাত ১০টার অনুষ্ঠান ভোর ৫টায় শেষ করায় শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমা চাইলে তিনি নমনীয় হন; আর নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে হবে।