শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে আরও দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুনের দাবি ইরানের; উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সন্দেহে ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ, এক নাবিক নিহত

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের দাবি, অনুমোদনহীন পথে যাওয়ার চেষ্টায় দুটি ট্যাঙ্কার মাইনে আঘাত পেয়েছে; এসব দাবির আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই।

হরমুজ প্রণালীতে আরও দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন লেগেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা এ কথা জানায়। এর একদিন আগে বৃহস্পতিবার ইরানের গণমাধ্যমে পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও একটি টাগবোটে একই ধরনের আগুন লাগার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এসব ঘটনার কোনোটিরই আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ সামুদ্রিক নিরাপত্তা বা নৌচলাচল-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করায় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; একটি প্রণালীর পূর্ব দিকে এবং অন্যটি প্রণালীর ভেতরে ছিল। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, জাহাজ দুটি তাদের নৌচলাচল ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সহায়তায়’ প্রণালী ছাড়ার চেষ্টা করছিল। মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর সেগুলোতে আগুন ধরে যায় এবং চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগত এই জলপথে জাহাজ চলাচল সীমিত করার চেষ্টা করছে ইরান। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে অবরোধ আরোপ করেছে এবং তেলবাহী জাহাজকে প্রণালী দিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে পার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড গত মাসে জানিয়েছিল, গ্রীষ্ম থেকে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে হরমুজ ব্যবহার করে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে; সম্প্রতি সংস্থাটি জানিয়েছে, জলপথ থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম সংস্থা (ইউকেএমটিও) শুক্রবার জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলরত একটি ট্যাঙ্কারের মাস্টার ওমানের খাসাব থেকে ১৬ নটিক্যাল মাইল পূর্বে জাহাজের বাম পাশের জলরেখায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছেন। জাহাজটি নিজ শক্তিতে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং সব নাবিক নিরাপদ আছেন।

আলাদা এক ঘটনায়, বৃহস্পতিবার উপসাগরে একটি জ্বালানি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সন্দেহে বিস্ফোরণ ঘটে বলে জাহাজের ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে। মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী এমটি ভেলোস স্যাফায়ার বাহরাইনের দিকে যাচ্ছিল। গ্রিসভিত্তিক ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভেলোস ট্যাঙ্কার্স জানায়, বিস্ফোরণের পর প্রথমে নিখোঁজ থাকা এক নাবিককে জাহাজে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়, পরে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্য নাবিকদের কেউ আহত হননি; তাঁরা জাহাজের আগুন নিভিয়েছেন। দূষণের কোনো খবর নেই। জাহাজটিকে বাহরাইনের খলিফা বিন সালমান বন্দরে নেওয়া হয়েছে, সেখানে তদন্ত শুরু হবে এবং হালের ক্ষতির পরিমাণ যাচাই চলছে।