রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিএনপির নজরুল ইসলামের কমন শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান

নজরুল ইসলাম খান এনসিপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, তারা সবার সহযোগিতা পাচ্ছেন না, যা হাস্যকর এবং দুর্ভাগ্যজনক।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এনসিপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, তাদের সবার সহযোগিতা পাওয়ার কথা থাকলেও তারা তা পাচ্ছেন না। তিনি কিছু মানুষের এমন সব কথা বলাকে হাস্যকর বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, “পাঁচ-ছয়টা আসন পেয়েছে যারা, তারা যদি ২১৪টা আসন পাওয়া একটা দলকে বলে যে কোনো সময় নাকি তার আসন কেড়ে নিতে পারে! রসিকতারও একটা সীমা থাকা দরকার।” এরপর তিনি রাজনীতিতে নবীনদের উদ্দেশে অনুরোধ করে বলেন, “অনুরোধ করব সবাইকে- রাজনীতিতে অনেকেই নবীন আছেন, তাদের ভবিষ্যৎ আছে। তারা যুক্তিবাদী হন, তারা জনগণের পক্ষে থাকুন, কল্যাণকর পরিবেশ সৃষ্টি করুন; জনগণ তাদের সমর্থন করবে। ভবিষ্যতে তাদের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু নিছক বিরোধিতায় কোনো আনন্দও নেই, কোনো সুবিধাও হবে না।” শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “তাই আমাদের কমন শত্রু যারা, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকুন।” নজরুল ইসলাম খান যুক্তি দেন যে, আপসহীন লড়াইয়ের কারণে এবং জনগণের পক্ষে থাকার কারণে এদেশের জনগণ বারবার বিএনপিকে পুরস্কৃত করেছে ও সম্মানিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে একদলীয় স্বৈরশাসন ‘বাকশাল’ নামক একটি মাত্র দল করে বাকি সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই বাকশালের স্বৈরশাসনের ধ্বংসস্তূপের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে জবাই করেছে, আর বিএনপি গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুধু গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন যতবার যেভাবে বিপন্ন হয়েছে, বিপর্যস্ত হয়েছে, সেই অর্থনীতিকে পুনরায় জনগণের কল্যাণে উন্নত করার দায়িত্ব বিএনপিকে পালন করতে হয়েছে। তারেক রহমান যখন দায়িত্ব নিলেন, তখন দেশের অর্থনীতির অবস্থা কী ছিল এবং কত লক্ষ কোটি টাকা পাচার ও দুর্নীতি করে দেশকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, মাথাপিছু কত লাখ টাকা ঋণের বোঝা বাংলাদেশের নাগরিকদের ঘাড়ে! এই অবস্থায় দায়িত্ব নিয়ে পুনরায় দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আফসোস করে বলেন যে, যারা একসাথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে এবং জনগণের শাসন কায়েমের ব্যবস্থা দিয়েছে, তারা সবার সহযোগিতা চেয়েছিল কিন্তু পায়নি। তিনি বলেন, যারা স্বৈরাচার ছিল এবং নির্বাচিত সরকারের বিরোধিতা করবে তা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু অন্যরা যখন সেই কাজে এক ধরনের পরোক্ষ সহযোগিতা করে, তখন সেটা হয় দুর্ভাগ্য। অবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দেশটা আমাদের সবার। আমরা সবাই মিলে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা সবাই মিলে বারবার এ দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। তিনি প্রশ্ন করেন, এই কাজটার বিরোধিতা করে লাভটা কী।