রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

সংবাদপত্র ছেঁড়ার ভিডিও ঘিরে বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের ব্যাখ্যা, সম্পাদক পরিষদের নিন্দা

রাশেদ খাঁন বলছেন, তিনি সংবাদপত্র নয়, নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন; ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের একটি সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রোববার ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন রাশেদ খাঁন।

রাশেদ খাঁনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিতর্কের সূত্রপাত দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত ‘এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি!’ শিরোনামের একটি সংবাদ। তাঁর অভিযোগ, ওই সংবাদের শিরোনাম ও ছবির উপস্থাপনার মাধ্যমে তাঁকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, কোনো সংবাদপত্রকে অসম্মান করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর ভাষ্য, তিনি কোনো পত্রিকা ছেঁড়েননি, বরং নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁর বক্তব্য না নিয়েই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে মন্তব্য করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন; ফলে তাঁকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা বিভ্রান্তিকর। নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত কোনো সংবাদ মিথ্যা মনে হলে তা প্রত্যাখ্যান ও প্রতিবাদ করার অধিকার তাঁর আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এনইসির সভাপতি শফিক রেহমান ও কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলমের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য ভিডিও করে প্রচার করা গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাতের শামিল। তাঁদের মতে, সংবাদে ক্ষুব্ধ হলে তিনি প্রতিবাদ পাঠাতে, প্রেস কাউন্সিলে যেতে বা আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগের সরকারের আমলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা, আগুন দেওয়া ও পত্রিকা অফিসে হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল; বর্তমান নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন আচরণ দুর্ভাগ্যজনক। এনইসি নেতারা এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে বাংলাদেশ লেবার পার্টি ঘটনাটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারের প্রতি চরম অবজ্ঞা বলে মন্তব্য করে রাশেদ খাঁনকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও এক ভিডিওবার্তায় এই দৃশ্য কী বার্তা দেয়, সে প্রশ্ন তুলেছেন।