নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ৩৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের প্রকল্পটি বাতিল করেছে সরকার। ধান সংরক্ষণের জন্য ৪৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার এই সাইলো নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল ২০২৩ সালে। গত মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশনের এক সভায় প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। একই সভায় ওই জমিতে সাইলোর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম বা সিএসডি নির্মাণের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়।
মহাদেবপুরের ভীমপুর ইউনিয়নে সাইলোর জন্য ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। পুরো এলাকাই ছিল আবাদি জমি, যা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া হয়। জমিতে মাটি ভরাটের কাজও হয়েছিল। তবে আড়াই বছর ধরে জায়গাটি খালি পড়ে আছে; প্রকল্প বাতিল হওয়ায় সেটি আরও দীর্ঘ সময় ফাঁকা থাকবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সচিব কবির আহমাদ জানান, সভায় প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখেই শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় যুক্তি হিসেবে বলা হয়, সাইলোতে নৌপথ বা রেলপথে বাল্কের মাধ্যমে মালামাল পরিবহন করা হয়। কিন্তু মহাদেবপুরে নৌপথ বা রেলপথ নেই। সড়কপথে পরিবহন করলে খরচ অনেক বেশি পড়বে।
নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, সাইলোতে ধান নিতে হয় জাহাজে করে বাল্কে বা ঢেলে; কিন্তু নির্ধারিত স্থানে জাহাজ যাওয়ার পথই নেই। বস্তায় করে ধান নিলে প্রতি কেজিতে ৬ টাকা বাড়তি খরচ হতো বলেও তাঁরা জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাইলো নির্মাণের স্থান থেকে আত্রাই নদের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার এবং ছোট যমুনা নদী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসীম উদ্দিন খান বলেন, বস্তা ছাড়া চাল সরবরাহ করা যায় না এবং ওই জায়গায় স্টিলের সাইলো নির্মাণ কোনোভাবেই কার্যকর নয়। তাই প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ওই স্থানে সিএসডি নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। সে সময় খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন সাধন চন্দ্র মজুমদার (২০১৮–২০২৪)। প্রকল্প গ্রহণের সময় বিভিন্ন সভায় উপস্থিত থাকা সরকারের এক যুগ্ম সচিব জানান, কর্মকর্তারা তখনই সাইলো না নিতে নানাভাবে বলার চেষ্টা করেছিলেন, তবে তৎকালীন মন্ত্রীর আগ্রহে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পে এখন পর্যন্ত তেমন অর্থ খরচ হয়নি। সাধন চন্দ্র মজুমদার ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে কারাগারে আছেন; তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলায় ২০টি খাদ্যগুদাম আছে, যেগুলোর ধারণক্ষমতা ৪১ হাজার ৫০০ টন। প্রয়োজনে সেখানে আরও ৩০ শতাংশ বেশি খাদ্যশস্য রাখা যায়। কর্মকর্তাদের মতে, জেলায় সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত গুদাম রয়েছে।