ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ, খাদ্য ও পানীয় জলের তীব্র সংকট
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে খাদ্য ও পানীয় জলের সংকটে ভুগছেন।
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে গত ১৫ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ছয় সপ্তাহ পরেও শাহরিয়া লেলু এবং তার পরিবার একটি মসজিদের বাইরে তাঁবুতে বসবাস করছেন। হাজার হাজার মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি চলমান দুর্ভোগের ইঙ্গিত দেয়।
এই ভূমিকম্পে ১৫১ জন নিহত এবং ৪৬,০০০ এরও বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও শাহরিয়ার পরিবারের বাড়িতে জল প্রবেশ করলেও তা ধ্বংস হয়নি। প্রায় ১৫,০০০ আফটারশক মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে এবং তাদের বাড়িতে ফিরতে বাধা দিচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, প্রায় ২৮,০০০ মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত জীবনযাপন করছে।
ফ্লোরেসের সিক্কা জেলার ৫৯ বছর বয়সী মারিয়া অনসেলিয়া তার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাইরে তাঁবুতে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, “আমরা খাবার নিয়ে সংগ্রাম করছি।” দুর্যোগের পর থেকে তিনি তার বোনা কাপড় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারছেন না। মারিয়া অনসেলিয়া আরও জানান, এই সময়ে জল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং চাল কেনার আগে তাদের জল কিনতে হচ্ছে।
ফ্লোরেসের উত্তরে প্রায় ১০,০০০ জন বাসিন্দার পালুয়ে দ্বীপে পরিচ্ছন্ন পানীয় জলের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। সেখানকার ৪০ বছর বয়সী শিক্ষক মেথিল্ডাস নেস্টর ল্যাঙ্গা বলেছেন, “আমাদের উদ্বেগের কারণ হলো পানীয় জলের অভাব, কারণ বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। সমস্ত জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে গেছে।” এই দ্বীপের বাসিন্দারা জল কিনছেন অথবা ভূ-তাপীয় উৎস থেকে বাষ্প সংগ্রহ করে পানীয় জল সংগ্রহ করছেন।
ইন্দোনেশিয়ান সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছে। নাগেকেও জেলার উপপ্রধান গনজালো গ্রাটিয়ানাস মুগা সাদা জানিয়েছেন, সরকার নভেম্বর মাসের শেষের মধ্যে ৩১৪ ইউনিট অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়া, ২,৪০০ ইউনিটের বেশি স্থায়ী আবাসন নির্মাণেরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সরকারের এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, অনেক মানুষের জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এখনও দূরবর্তী। শাহরিয়া লেলুর স্বামী একটি গাড়ি ও বাইক মেরামতের দোকান চালাতেন, যা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। শাহরিয়া এখন মাছ বিক্রি করে কিছু অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “অনুগ্রহ করে আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করুন।”