শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

মজুরি আন্দোলনে অস্থিরতা না কমলে কারখানা বন্ধ রাখতে চান পোশাকমালিকেরা; রোববার পর্যন্ত অপেক্ষার অনুরোধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএর নেতারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে কারখানা বন্ধ রাখার কথা ভাবছেন তাঁরা।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ বন্ধ না হলে ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে কারখানা বন্ধ রাখতে চান তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী রোববার পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে তাঁদের অনুরোধ করা হয়েছে।

পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতা নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন মালিকদের একটি প্রতিনিধিদল। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক মালিক জানান, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান অস্থিরতা নিয়ে এক ঘণ্টার বেশি আলোচনা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ রাখতে চান বলে তাঁরা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের রোববার পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে অনুরোধ করেন; তারপরও উন্নতি না হলে মালিকেরা নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিজিএমইএর কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি কয়েকজন সাবেক সভাপতি ও শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ১৩ (১) ধারায় কারখানা বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। সেদিন সন্ধ্যার পর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিজিএমইএ সভাপতি জানান, কারখানার উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা এখনো পর্যাপ্ত বলে মনে করছেন না মালিকেরা। প্রধানমন্ত্রী তখন আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেন। এরপর বিজিএমইএ সদস্য প্রতিষ্ঠানকে কারখানা বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এর জেরে চলতি সপ্তাহে প্রতিদিনই বেশ কিছু কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। গত রোববার শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করে, যার প্রথম সভা হয় বুধবার।