উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনের সমন্বিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর পর্যাপ্ত সংস্কার হয়নি। তাঁর মতে, এটি এক-দুটি প্রকল্পের বিষয় নয়; সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা নতুন করে গড়তে হবে।
জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ধাপে ধাপে উন্নয়নে ৪৪ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদের এ প্রকল্প এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এর আওতায় ৪৪৩টি উপজেলায় সমন্বিত বহুতল সেবাভবন এবং ১৫টি উপজেলায় চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের আবাসন সুবিধা তৈরি হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বাড়ায় ৩০ ও ৫০ শয্যার অনেক কমপ্লেক্স আর যথেষ্ট নয়; কিছু উপজেলায় ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষ সেবা নেয়। তাই ৫০৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ ১৫১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা, ওয়ান-স্টপ জরুরি সেবা, ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার স্ক্রিনিংসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার কথা।
তৃণমূলে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১৪ হাজার ৬৩৪টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হাব এবং ১ হাজার ৬৩১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় ১১ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মেয়াদও একই। প্রকল্প শেষ হলে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী অন্তত প্রতি দুই মাসে একবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ ও সেবা দেবেন। তাঁরা রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারবেন।
জনবল সংকট নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নার্স আছেন। সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আরও ২ হাজার ৫০০ নার্স নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ এবং বিদ্যমান ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর পাশাপাশি আরও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।