যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা যে কারণে হেরেছি, তা হলো যুদ্ধ।’ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যনীতির প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ এই মন্তব্যের জবাবে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, সবকিছুর জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা সহজ, কিন্তু বাস্তবতা তা নয়।
ভান্স তাঁর পোস্টে লেখেন, রিপাবলিকান ভোটাররা চেয়েছিলেন ট্রাম্প জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির দিকে মনোযোগ দিন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করুন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে পরিবর্তন আনুন। তিনি বলেন, যাঁরা মনে করেন যুদ্ধ করা সার্থক ছিল এবং আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেট হারানো সেই মূল্য দেওয়ার যোগ্য, তাঁরা সে যুক্তি দিতে পারেন। ভান্সের ভাষায়, ‘সবাই জানে আমরা কেন হেরেছি। কোথায় যাব, তা নিয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা সেখান থেকেই শুরু হতে হবে।’
এ পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২৩৭টি আসন পেয়েছে, ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কাজে গুরুতর বাধা তৈরির ক্ষমতা তারা পেয়েছে। ফল আসতে থাকার সময় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপাবলিকান প্রার্থীদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে লেখেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না; থাকলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জিততাম।’ এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, পরাজয়ের একটি কারণ ইরান হতে পারে, যদিও তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতেন।
ইরান যুদ্ধ শুরু হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে হামলা চালায়। ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যার ফলে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এ বিষয়কে নির্বাচনী ইস্যু করেছিল।
এক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড্যানি ড্যানন বলেন, ‘ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল না। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে সমর্থন করেছি এবং মনে করি, সেটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’ তিনি মূল্যবৃদ্ধি, বিশেষ করে তেলের দামের সঙ্গে ইসরায়েলের পরিস্থিতিকে যুক্ত করাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরায়েলের সমালোচনা করা ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের কণ্ঠস্বরের দিকে নজর রাখতে হবে এবং ইসরায়েল-বিরোধী রাজনীতিকদের উত্থানে তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল-সমর্থক ও ইসরায়েল-নীতির সমালোচক লবিগোষ্ঠীগুলোর ভূমিকাও নির্বাচনে আলোচনায় এসেছে। উদারপন্থী লবিগোষ্ঠী জে স্ট্রিট জানিয়েছে, তাদের সমর্থিত ২০০–এর বেশি প্রার্থীর ৯০ শতাংশের বেশি জিতেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল-সমর্থক লবিগোষ্ঠী এআইপিএসি নির্বাচনের ১২ দিন আগে প্রার্থীদের সমর্থন ও সরাসরি অনুদান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল, তবে ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহের মাধ্যমে ইসরায়েল-সমর্থক প্রার্থীদের অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানায়। এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের রাজনৈতিক মূল্য এখন যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে।