‘দোয়া কইরো মা, কাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব’—মায়ের কাছে দোয়া চেয়ে ফোন রেখেছিলেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। সেই কথাই যে মায়ের সঙ্গে ছেলের শেষ কথা হবে, তা কেউ ভাবেননি। টেকনাফে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া তিতাসের ছবি বুকে নিয়ে এখন বুকফাটা আহাজারি করছেন মা। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে শুক্রবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, তিতাস শেখ (২৮) ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। টেকনাফের রঙ্গীখালী সেনা ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর মা, স্ত্রী ও বাবা শোকে ভেঙে পড়েছেন।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৪টার মধ্যে তিতাসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। এরপর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। তিতাসের মৃত্যুতে ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় গোলাগুলিতে তিতাস গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে তিনি মারা যান। ওই অভিযানে পাচারকারীদের আস্তানা থেকে জিম্মিদের উদ্ধারের খবর আগেই জানা গেছে।