রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানকে আধুনিক ও দর্শনার্থীবান্ধব করতে ব্যাপক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধ ঘিরে প্রায় ১৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২১টি পৃথক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে অধিকাংশ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
পরিকল্পনায় রয়েছে সমাধিসৌধের মূল অবকাঠামো সংস্কার, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগারের আধুনিকায়ন, ক্রিসেন্ট লেকের অকেজো ফোয়ারা সচল করা, হাঁটার পথ নির্মাণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও শৌচাগারের ব্যবস্থা। জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, সংরক্ষণাগার ও গ্রন্থাগার সংস্কার এবং আসবাবপত্র কেনায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২ লাখ টাকা। দুই প্রয়াত নেতার সমাধিস্থলের মার্বেল ও গ্রানাইট সংস্কারসহ আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ক্রিসেন্ট লেকের ফোয়ারা সংস্কারে প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং গভীর নলকূপ ও পানি সরবরাহব্যবস্থা স্থাপনে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে নারী, পুরুষ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। পুকুরপাড়ে নতুন হাঁটার পথ, লেকের সেতু সংস্কার ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সমাধিসৌধ এলাকার মসজিদ, মিলনায়তন, জাদুঘর ও গ্রন্থাগারে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। মিলনায়তনে আধুনিক আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা ও বড় পর্দা সংযোজনের কাজও চলছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন অবকাঠামো যুক্ত করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বড় অংশের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে সমাহিত করার পর এলাকাটি বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব পায়; ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে সেখানে সমাহিত করার পর এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।