বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, ড্রোনে নজরদারি

গাজীপুরে ১২, সাভার-আশুলিয়ায় ১১, নারায়ণগঞ্জে ৭ ও মিরপুরে ৩ প্লাটুন; নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক বলছেন, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে না জড়ালে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কারখানাসহ শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো. শরীফুল ইসলাম এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানান।

বার্তায় বলা হয়, মোতায়েন করা সদস্যদের মধ্যে মিরপুর এলাকায় তিন প্লাটুন, সাভার ও আশুলিয়ায় ১১ প্লাটুন, গাজীপুরে ১২ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জে সাত প্লাটুন দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) ও রায়ট কন্ট্রোল ভেহিকল (আরসিভি) রাখা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে লাইভ মনিটরিং চলছে, দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যরা বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন। বিজিবি সদর দপ্তরের মনিটরিং সেল থেকে এসব কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে তাদের এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির বৃহস্পতিবার সকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, শ্রমিকরা খুব বেশি উত্তেজিত নন। হয়তো কেউ কেউ প্ররোচনার শিকার হয়ে কারখানার বাইরে আসছেন। তাঁদের বুঝিয়ে কারখানায় ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তবে শ্রমিকরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে না জড়ালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

ডিসি জানান, জেলায় পুলিশ, শিল্প পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ব্যাটালিয়ন ও আনসারসহ পাঁচ ধরনের বাহিনী মোতায়েন আছে এবং কাজ করছে তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা। শুধু নারায়ণগঞ্জ শহরেই দায়িত্বে আছেন ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় ছয় প্লাটুন বিজিবি এবং বিভিন্ন স্থানে ৫০ জন করে পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে তিন শতাধিক অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।