শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রীর ট্রান্সজেন্ডার-সংক্রান্ত বক্তব্যের নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে ইসলামি আকিদা ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে যৌথ বিবৃতিতে নিন্দা জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও মহাসচিব।

শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া ট্রান্সজেন্ডার-সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শের প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশের ঈমান, আকিদা, সামাজিক সংস্কৃতি ও নৈতিকতার পরিপন্থী। নেতারা বলেন, ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী নারী ও পুরুষের সৃষ্টিগত পরিচয় আল্লাহর নির্ধারিত; জন্মগত লৈঙ্গিক পরিচয় অস্বীকার করে ভিন্ন লিঙ্গপরিচয়ের মতাদর্শকে বৈধতা দেওয়া সংগত নয়।

হেফাজত নেতারা আরও বলেন, ইসলাম সব মানুষের মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। তবে মানবিক মর্যাদা রক্ষার নামে ধর্মীয় বিধানের বিরোধী কোনো মতবাদ সমাজে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।

শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, এটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চরিত্র ও নৈতিকতা গঠনের মূল ভিত্তি। দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করে, এমন কোনো ধারণা শিক্ষাব্যবস্থায় ঢোকানো উচিত নয় বলে মত দেন তাঁরা। জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখানো সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষামন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়। এতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়; তাই এমন অবস্থান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান হেফাজত নেতারা।

এর আগে একই বক্তব্য নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছেন এবং তৃতীয় লিঙ্গ বোঝাতে চেয়েছিলেন।