সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

গুলশানের কিংফিশার রেস্টুরেন্টে এনবিআরের অভিযান, বৈধ কাগজবিহীন বিপুল অ্যালকোহল জব্দ

শুল্ক-ভ্যাট ফাঁকি ও অর্থপাচারের সন্দেহে রোববার মধ্যরাত থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চারটি গোয়েন্দা ইউনিট।

রাজধানীর গুলশানে কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা দল। শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকি এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে এনবিআর জানিয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান শুরু হয়, চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। গুলশানের ৪৫ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর প্লটে অবস্থিত রেস্টুরেন্টটিতে অভিযানে সহযোগিতা করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১)।

এনবিআরের নির্দেশনায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে যৌথ অভিযানে অংশ নেয় সংস্থাটির চারটি গোয়েন্দা ইউনিট। এগুলো হলো সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। কাস্টমস আইন-২০২৩, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ এবং আয়কর আইন-২০২৩-এর আওতায় নির্ধারিত ক্ষমতাবলে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

এনবিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য অ্যালকোহলজাতীয় পণ্য অবৈধ উৎস ও চোরাচালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করে শুল্ক-ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানো হয়। জব্দ করা পণ্যের উৎস ও বৈধতা এখন যাচাই করা হচ্ছে।

পাশাপাশি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর পরিশোধ করা হয়েছে কি না এবং বিক্রির অর্থ আয়কর নথিতে যথাযথভাবে দেখানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট লেনদেনে অর্থ পাচারের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তবে জব্দ করা পণ্যের চূড়ান্ত তালিকা, রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানায়নি এনবিআর। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তথ্য জানানো হবে।