বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

হবিগঞ্জে আইফোনের জন্য ঘুমন্ত বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার; স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে স্বীকারোক্তি

নবীগঞ্জের দুই বাল্যবন্ধু লাখাইয়ে নির্মাণকাজে গিয়েছিলেন; নিখোঁজ হওয়ার পর বন্ধুর স্বীকারোক্তিতে ফুলবাড়ী গ্রামের ডোবা থেকে তারেক আহমেদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে একটি আইফোনের জন্য বাল্যবন্ধুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ হওয়া তারেক আহমেদের (২১) লাশ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাশের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বন্ধুকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর গ্রামের মহব্বত উল্লার ছেলে তারেক আহমেদ এবং একই গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে সায়েল মিয়া বাল্যবন্ধু। কয়েক দিন আগে দুজন লাখাইয়ের ফুলবাড়ী গ্রামে একটি ভবনের নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজে যান। গত ২৫ অক্টোবর তারেকের বাবা মহব্বত উল্লা ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে নবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এর মধ্যে সায়েলের কথাবার্তায় গ্রামের লোকজনের সন্দেহ হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সায়েল গ্রামে ফিরলে বাসিন্দারা তাঁকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তারেককে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের বরাতে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আইফোনটি নেওয়ার জন্য ঘুমন্ত তারেককে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকার ওই ফোন ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে লাশ গুম করে সায়েল সেখান থেকে চলে আসেন। আটক সায়েলের দেখানো জায়গা থেকেই ডোবায় লাশ পাওয়া গেছে।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, সায়েল মিয়া প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মামলা দায়েরের পর তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অভিযুক্ত মাত্র।