শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক মন্তব্য ছড়ানোর মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত বৃহস্পতিবার রাতে এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক এ বি এম আবদুল্লাহগ আল সাকিব মূল ষড়যন্ত্র উদঘাটন ওProper তদন্তের জন্য রাকিবুলের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওসি রাকিবুলের আইনজীবী মোরশেদুল ইসলাম শাহীন জানান, এই মামলায় তার মক্কেলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, তারা এই রিমান্ডের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওসি রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত শুরু হয়। পরের দিন পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তাকে মিন্টো রোডে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে একজন ওসি পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমালোচনা করতে শোনা যায়। ওই অডিও ক্লিপে বলা হয়, 'রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।' অডিওতে আরও দাবি করা হয় যে, 'পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, অথচ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না।' এই অডিও রেকর্ডটিতে পুলিশের নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছিল। ওই অডিও রেকর্ডের ভিত্তিতে ওসি রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ডিএমপি সদর দপ্তরের প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ বিভাগে সংযুক্ত থাকাকালীন তাকে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন ডিএমপি কমিশনারের কাছে জমা দেয়। এরপরই তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।