প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের একটি ছবির নিচে ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ নিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ চিঠি পাঠিয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিখা সরকারের স্বাক্ষরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে এ চিঠি যায়।
চিঠিতে আবু বকরের মন্তব্যকে ‘হিংসাত্মক ও আক্রমণাত্মক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, তিনি কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। একই দিন অনুষ্ঠিত কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি আলোচিত হয়। সভায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
ইতিহাস বিভাগের প্রধান ড. শাহনাজ পারভিন বলেন, আবু বকর যা করেছেন, তাঁরা তা গর্হিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজে ব্যবস্থা নিতে পারে না, তাই যেখান থেকে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, সেখানেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সভার কার্যবিবরণীতেও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর রাজশাহী সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে চলাচল করেন। সেই বাসের ছবি ফেসবুকের একটি গ্রুপে পোস্ট করা হলে মন্তব্যের ঘরে ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল’ লেখা হয়। পুলিশ জানায়, ২২ অক্টোবর রাজশাহীর পবা উপজেলার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়ায় মামার বাড়ি থেকে আবু বকরকে আটক করা হয়। এর আগে তাঁর বাবাকে হেফাজতে নেওয়া হলেও পরে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঢাকার রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে বিচারক তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে আবু বকর বলেন, মন্তব্যটি তিনি মজা করে করেছিলেন, কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, ভুল হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আসামি নিজের ভুলের কথা বললেও মন্তব্যটি নিছক মন্তব্য ছিল না।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে বলেছেন, এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে শনাক্ত করা এবং ঘটনার পেছনে কোনো চক্র বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আবেদনে আরও দাবি করা হয়, আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন; অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।