রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

ইরানে নতুন হামলা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, বললেন রুবিও; ট্রাম্প বললেন "এক-দুটি লক্ষ্য" বাকি, আরাকচি বললেন আলোচনার পরিকল্পনা নেই

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার জল্পনার মধ্যে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও তেহরান শর্ত পূরণ ছাড়া আলোচনায় না বসার অবস্থানে অনড়।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মঙ্গলবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা হতে পারে—এমন খবরের মধ্যে শনিবার জর্জিয়ার আটলান্টায় জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রুবিও বলেন, চাইলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারে, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প "কোনো সিদ্ধান্ত নেননি"। "আজ এ বিষয়ে আমার কোনো ঘোষণা নেই, আর আমরা এসব হালকাভাবেও নিই না," বলেন তিনি। বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের "সক্রিয় ও প্রকাশ্য" হামলার সমালোচনা করলেও রুবিও জানান, ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন। তাঁর ভাষ্য, "একাধিক আলোচনা চলছে, আলোচনা আসলে কখনো থামেনি"; এসব আলোচনা কখনো সরাসরি, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-উদ্বেগ, বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক ভূমিকার বিষয়গুলো সমাধান হলে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমঝোতায় রাজি বলেও জানান তিনি। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে শনিবার ফ্লোরিডার বাসভবনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে, তবে "এক-দুটি স্থান" এখনো "সামলাতে" হবে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা তিনি বলেন এবং দাবি করেন, "১০ মিনিটেই" তা করা সম্ভব। ইরান ওই স্থানে পারমাণবিক কাজের কথা অস্বীকার করেছে। আলোচনা সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্য, তা "ঠিকঠাক চলছে, তবে ওরা খুব নির্ভরযোগ্য নয়"।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাইকে যে বার্তা পাঠিয়েছেন, তা যাচাই করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা পর্যালোচনা করছে। আরাকচি এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা যায় বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, ইরানের শর্ত স্পষ্ট; কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছে এবং আলোচনা সরাসরি হবে নাকি পরোক্ষ, তা যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নেওয়ার পরই ঠিক হবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্পের নির্দেশেই ভ্যান্স বার্তাটি পাঠিয়েছেন; ট্রাম্প তা অস্বীকার করে বলেছেন, ইরানের জন্য চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দিতে সহায়তাই ছিল ভ্যান্সের ভূমিকা।

হরমুজ প্রণালি আবার খোলার বিষয়ে আরাকচি জানান, ইরানের সাত শর্ত মানা হলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালি খোলার একটি প্রস্তাব আছে। কাতার সময় কমিয়ে পাঁচ দিনে আনতে বলেছে এবং দুই দিনে নামানোর প্রস্তাব এখন আলোচনায়। তাঁর ভাষ্য, ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন পথ মেনে নেওয়া এবং বিকল্প পথ বন্ধ করার ওপর প্রণালি খোলা নির্ভর করছে। তেহরান আরও চায়, ইরানি তেল বিক্রির ছাড়পত্র ফিরিয়ে আনা হোক এবং কাতারে রাখা অর্থসহ সব জব্দ ইরানি সম্পদ মুক্ত করা হোক। যুদ্ধের সম্ভাবনা ইরান উড়িয়ে দিচ্ছে না, সব পরিস্থিতির জন্য তৈরি আছে বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও অঞ্চলটিতে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়; এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি হয়। জুনে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে একটি কাঠামো চুক্তি সই হলেও বাস্তবায়ন আটকে আছে। শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন হামলা না চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।