জরিমানা ছাড়া আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সময় আছে আর মাত্র দুই মাস। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো জরিমানা ছাড়া নির্ধারিত কর দিয়ে আয়কর রিটার্ন দিতে পারবেন করদাতারা। ১ জানুয়ারি থেকে রিটার্ন দিলে জরিমানার মুখে পড়তে হবে।
এ বছর থেকে সব করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে; জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এটি বাধ্যতামূলক করেছে। তাই যে কর আরোপ হবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নির্ধারিত হবে। ফলে ১ জানুয়ারি থেকে রিটার্ন দিয়ে শুধু নির্ধারিত কর পরিশোধ করে জমা দিতে চাইলে এনবিআরের সিস্টেম তা নেবে না।
বর্তমানে সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিবছর মাত্র ৫০ লাখের মতো রিটার্ন দেন।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) যাঁরা রিটার্ন দিয়েছেন, তাঁরা পরিশোধিত করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা, যেটি কম, তা ছাড় পাবেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর), অর্থাৎ এখন যাঁরা রিটার্ন দেবেন, তাঁরা কোনো ছাড় পাবেন না; যা কর আসবে, তা-ই দিলে হবে।
জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা তিন হাজার টাকা, যেটি বেশি, সেই পরিমাণ টাকা জরিমানা দিতে হবে। মার্চের পর রিটার্ন দিলে জরিমানা আরও বাড়বে। এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা পাঁচ হাজার টাকা, যেটি বেশি, সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।
করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবার অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। অনলাইনে রিটার্ন দিতে সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য রাজস্ব বোর্ডের কর্মীরা কল সেন্টার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সেবা দেবেন বলে জানানো হয়েছে।
শুধু রিটার্ন জমা দিলেই করদাতার দায়িত্ব শেষ নয়। ভবিষ্যতে কর কর্মকর্তাদের নিরীক্ষায় পড়লে যাতে সহজে উপস্থাপন করা যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা উচিত। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে ঝুঁকি আছে।