ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ কয়েকটি দাবিতে রোববার ঢাকার মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে সাভার ও গাজীপুরের অন্তত ৮০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বর এলাকায় বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশের সঙ্গে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পৌনে ১২টার দিকে থামে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর–১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১–এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দুপুর থেকে সাভারে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে ও কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাভারের অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিশ্চিতপুর এলাকার একটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান করেন। সকাল পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুরে একটি কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর–বাইপাইল সড়কে একদল শ্রমিক বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। শিল্প পুলিশ তাঁদের সড়কের একপাশে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানায়। পরে পৌনে ১২টার দিকে ওই কারখানার কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, কাজ বন্ধ রেখে কারখানায় অবস্থান করা একাধিক শ্রমিক তাঁকে জানিয়েছেন যে দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কেউ তাঁদের সঙ্গে কথা বলেননি। শ্রমিকেরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন বলে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত তাঁদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে একটি কারখানার ঝুটের গোডাউন ও একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে কালিয়াকৈর উপজেলার অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সকালে রতনপুর এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন।