বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

নাটোরে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের নামে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও ছড়ানোর দাবি; এমপির ভাষ্য ‘বানোয়াট’, দলের নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের দাবি

নাটোর-৪ আসনের বিএনপি এমপির নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনটি ভিডিও ছড়িয়েছে বলে বলা হচ্ছে; এসবের সত্যতা যাচাই করা যায়নি, এমপি বলছেন এগুলো তাঁকে হেয় করার চেষ্টা।

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনটি ‘আপত্তিকর’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে ভিডিওগুলো ছড়ানোর পর এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা ও উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভিডিও নিয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, এগুলো ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক একটি পক্ষ তাঁর পেছনে উঠেপড়ে লেগেছে। তিনি বলেন, এখন ইন্টারনেটের যুগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করা যায়। প্রতিপক্ষ তাঁর সুনাম নষ্ট করতে এসব করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার ও পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ প্রতিবাদে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণাও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাসসহ কয়েকটি স্থানে এমপির ছবিযুক্ত বিলবোর্ড ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

নাটোর জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একজন সংসদ সদস্য আইন প্রণেতা; তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে সমাজে তার প্রভাব পড়ে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, বিষয়টি যেন সহ্য করা না হয়।

নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, দলের কোনো সদস্যের নৈতিক স্খলন হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি মাসের আহ্বায়ক কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। তাঁর ভাষ্য, ‘কেউ দলের ঊর্ধ্বে নন।’

এ ঘটনার আগে থেকেই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়ায় হামলার শিকার ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম ২৬ অক্টোবর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় এমপির ছেলে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে পুলিশ আটক করে, এখন তিনি তিন দিনের রিমান্ডে আছেন। কেন্দ্রীয় যুবদল তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। একই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গুরুদাসপুর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ছাত্রদল সূত্রের দাবি, এমপির দুই ছেলের আলাদা সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে এবং তাঁদের দ্বন্দ্বের জেরেই শাকিলের ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল জানা যায়নি।