শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

যশোরের চৌগাছায় ধানে আর্সেনিকের ঝুঁকি কমাতে সেচ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি, ১২টি মডেল প্লটে ১৪৪ কৃষক

তিন দিন জমি ভেজানো ও চার দিন শুকানোর পদ্ধতিতে পানি সাশ্রয় ও ফলন বাড়ার কথা জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা; আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে ৬০ সেচপাম্প মালিক পদ্ধতিটি ব্যবহার করবেন।

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ধানে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি আর্সেনিক পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ঝুঁকি কমাতে সেচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আর্সেনিকমুক্ত বা সহনীয় মাত্রার ধান উৎপাদনে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক। জাপানের জাইকা ও জাপান সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সির কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় তারা ‘নিরাপদ ও পুষ্টিকর ধান (সানরাইজ)’ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

খাদ্যমান নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশনের নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী ধানে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.৩৫ পিপিএম। তথ্য অনুযায়ী, চৌগাছায় ৫৬ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ধানে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। সংস্থা বলছে, ধান ও ভাতে আর্সেনিক সহনীয় রাখতে সেচ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। এ জন্য তারা ‘থ্রিএফফোরডি’ পদ্ধতি অনুসরণে কৃষকদের সচেতন করছে, যেখানে তিন দিন জমি ভেজানো এবং চার দিন শুকানো হয়। পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে ১২টি মডেল প্লট করা হয়েছে, যেখানে ১৪৪ জন কৃষক যুক্ত আছেন। এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৬০ জন সেচপাম্প মালিক আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে পদ্ধতিটি ব্যবহার করবেন। সংস্থার উপজেলা কো-অর্ডিনেটর বলেন, মূল বিষয় ধানের জমিতে পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা; এতে ২০ শতাংশ পানি সাশ্রয় হয় এবং ৮ শতাংশ বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব। তাঁর ভাষ্য, ইরি-বোরো মৌসুমে সেচপাম্পে পানি তোলার ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমলে আর্সেনিকের ঘনত্ব বাড়ে, ফলে ধানে ঝুঁকি থাকে।

মডেল প্লটের দুই কৃষক জানান, ধানে আর্সেনিক থাকতে পারে, এ ধারণা তাঁদের আগে ছিল না। এখন আগের মতো পানি না দিয়ে নতুন পদ্ধতিতে ভালো ফল পাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, প্রচলিত জলাবদ্ধতার পরিবর্তে তিন দিন পানি ধরে রেখে চার দিন শুকালে মাটিতে অক্সিজেনযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়, ফলে ধান গাছের আর্সেনিক শোষণ কমে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী বলেন, ধান বা চালে আর্সেনিক নিয়ে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই; তবে পানিতে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। তাঁরা ১১টি ইউনিয়নে ৯০টি অগভীর নলকূপ বসিয়েছেন, সেখান থেকে পানির নমুনা আঞ্চলিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয় এবং যেখানে মাত্রা বেশি, সেখানে পানি পরিশোধনের পাত্র দেওয়া হচ্ছে।