নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তভার থানা-পুলিশের কাছ থেকে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদের সই করা এক অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ‘জনস্বার্থে’ আবদুল হান্নানকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলো। আজ বুধবারের মধ্যেই তাঁকে সেখানে যোগ দিতে বলা হয়েছে। আবদুল হান্নান আদেশ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন এবং ইতিমধ্যে থানা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা, থানার উপপরিদর্শক আমির হোসেন বলেন, তদন্তভার পরিবর্তনের কথা তিনি শুনেছেন, তবে এখনো অফিস আদেশ পাননি।
গত ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাকিল ইসলামকে। তাঁকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং এরপর ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার রাতে তিনি মারা যান।
হামলার পর ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল করিম অজ্ঞাতপরিচয় আট থেকে ১০ জনকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন। এই হত্যাকাণ্ডে নাটোর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ সোমবার রাতেই তাঁকে আটক করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
শাকিলের জানাজার পরপরই মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে এমপির ছেলের ঘনিষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেল হোসাইনের রাশ মেগা মলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শাটার ভেঙে শত শত মানুষ মলের তৈরি পোশাক, প্রসাধনী ও জুতা-স্যান্ডেলের দোকানে লুটপাট চালান, পরে ভাঙচুর করা হয়। প্রায় ৪০ মিনিট লুটপাট চলার পর পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়।