শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসঙ্ঘ সদরদফতরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি মোকাবেলায় তারেক রহমানের আহ্বান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের জাতিসঙ্ঘ সদরদফতরের কনফারেন্স রুম-৪-এ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সঙ্কট মোকাবেলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে একা মোকাবেলা করা সম্ভব নয় এবং এ জন্য বৈশ্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, সাগর তার প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। তিনি বাংলাদেশের ভূখণ্ডগত বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন, যেখানে শত শত নদী সাগরে মিশেছে, যা দেশের মানুষের জীবন, সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের সাথে উপকূলকে ওতপ্রোতভাবে জড়িত করে। তিনি বিশ্বব্যাংকের হিসাব উল্লেখ করে বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ১ কোটি মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন। জবাবে, প্রধানমন্ত্রী জানান, সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ এমন একটি বিপর্যয়কর ভবিষ্যৎ ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার প্রস্তুতি জোরদার এবং উপকূল সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। জলবায়ু সহনশীলতা আরও শক্তিশালী করতে আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও মজুতের জন্য পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া, মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ। সবুজ প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে সবুজ শিল্প ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের প্রসার, জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা এবং বন, জলাভূমি ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থার সুরক্ষা জোরদারে কাজ চলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্কট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ৪টি জরুরি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রথমত, বৈশ্বিক নিঃসরণ আরও দ্রুত, ব্যাপক ও ন্যায়সঙ্গতভাবে কমাতে হবে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমার মধ্যে রাখার লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করতে হবে। চতুর্থত, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন ও জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং ঘোষণাপত্রে দেওয়া অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে কোনো দেশকে একা ‘রাইজিং টাইড’-এর মুখোমুখি হতে না হয়। জাতিসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।