শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

মোবাইল তরঙ্গ নবায়নের দাম ১০-৩০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব বিটিআরসির, আরও কম দাম ও ২০ বছরের কিস্তি চায় অপারেটররা

গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের তরঙ্গ ব্যবহারের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হবে ১০ নভেম্বর; নবায়ন ফি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অপারেটরদের অবস্থান ভিন্ন।

মোবাইল অপারেটরদের ব্যবহৃত বেতার তরঙ্গের লাইসেন্স নবায়নের মূল্য নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তরঙ্গ নবায়নের মূল্য আগের দরের চেয়ে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে অপারেটররা বলছে, প্রস্তাবিত দামও বেশি; তারা আরও কম দাম এবং দীর্ঘ সময়ে কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুযোগ চায়।

বর্তমানে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের হাতে থাকা ৯০০, ১ হাজার ৮০০ ও ২ হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ ব্যবহারের বিদ্যমান লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১০ নভেম্বর। তিন অপারেটরের হাতে মোট ৭৯ দশমিক ২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ আছে; এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৩২ দশমিক ৪, রবির ২২ দশমিক ৪ এবং বাংলালিংকের ২৪ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ। বর্তমান নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এসব তরঙ্গ নবায়নে ব্যয় হওয়ার কথা ১৬ হাজার ৮৪৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। বিটিআরসির নতুন প্রস্তাবে তা কমিয়ে ১৩ হাজার ১০০ কোটি ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রস্তাব কার্যকর হলে আগের হিসাবের তুলনায় সরকারের সম্ভাব্য আয় ৩ হাজার ৭৪৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা কমবে। ১৫ অক্টোবর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে প্রস্তাবটি পাঠিয়েছে বিটিআরসি। আগে নবায়নের মেয়াদ ১২ বছর ৪ মাস রাখার প্রস্তাব থাকলেও এবার তা ২০ বছর করার কথা বলেছে কমিশন।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে গবেষণা করে মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চারটি পদ্ধতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে: আয় ও নগদ অর্থপ্রবাহের হিসাব, টাওয়ারের খরচ সাশ্রয়ের প্রকৌশলভিত্তিক মডেল, বিভিন্ন দেশের তরঙ্গের দামের তুলনা এবং আর্থসামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ।

প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও দাম আরও কমানোর দাবি জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)। ২৫ অক্টোবর বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে সংগঠনটির মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার ২০ বছরে সমান কিস্তিতে নবায়ন অর্থ পরিশোধের সুযোগ চেয়েছেন এবং বার্ষিক তরঙ্গ চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, দীর্ঘ মেয়াদের তরঙ্গের মূল্য নির্ধারণে স্বল্পমেয়াদি দামের হিসাব সরাসরি প্রয়োগ করা ঠিক নয়; ভবিষ্যতের আয়-ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, প্রযুক্তির পরিবর্তন ও বিনিয়োগের ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। অ্যামটবের হিসাবে, বাংলাদেশের অপারেটররা আয়ের ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ তরঙ্গের পেছনে ব্যয় করে, যেখানে বিশ্বে গড় হার ৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ।

অপারেটরদের কর্মকর্তারা বলছেন, তরঙ্গের খরচ বেশি হলে নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিনিয়োগের টাকা কমে যায়; খরচ কমলে তার একটি অংশ নেটওয়ার্কের আওতা বাড়ানো, ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব। প্রযুক্তি নীতিমালা পরামর্শক আবু নাজম মো. তানভীর হোসেন বলেন, তরঙ্গের দাম ৩০ শতাংশ কমানো হলে সেবার মান নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতাও সে অনুপাতে বাড়ানো উচিত। দেশে মুঠোফোন গ্রাহকের সংখ্যা এখন ১৯ কোটির বেশি। তরঙ্গের ফি কমলেই যে গ্রাহকের ইন্টারনেট বা কলের খরচ কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলেও বিশ্লেষকেরা মনে করেন।