গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদক ও অপরাধ নিয়ে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি, নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
আক্রান্তরা হলেন একটি জাতীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদক রবিউল হাসান (২৬), আসিফুল ইসলাম রিফাত (২৬) ও আবির আহমেদ সুপ্ত (২৩)। রবিউল হাসান জানান, দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা মাদকস্পট হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় গেলে ২০-২৫ জনের একটি দল তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তাঁর অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলির ভয় দেখানো হয়। পরে পাশের একটি স্থানে নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, পিস্তলের মুখে পানির সঙ্গে চেতনানাশক জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে জোর করে খাওয়ানো হয়; এরপর তাঁদের সামনে মাদকদ্রব্য রেখে ও হাতে টাকা দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হয় এবং ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা চলে।
রবিউল হাসানের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা, ক্যামেরা ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়, ক্যামেরাসামগ্রী ভাঙচুর করে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও কর্মস্থলের পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেড়ে নেয়। বিকেল ৩টার দিকে এক অজ্ঞাত নেতা মোবাইলে ভিডিও কলে ওই এলাকার মাদক ও অপরাধ নিয়ে ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশ না করার প্রস্তাব দেন। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আহত অবস্থায় তিনজনকে টঙ্গী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন; পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। রবিউল হাসান টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, মাজার বস্তি উচ্ছেদের পর মাদক কারবারিরা তুরাগ নদের তীর ও ইজতেমা মাঠ এলাকায় ভ্রাম্যমাণভাবে মাদক বিক্রি করছে এবং ওই এলাকায় আরও বড় পরিসরে অভিযানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর একই এলাকায় একটি জাতীয় দৈনিকের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ, মারধর ও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছিল। এর মধ্যে আবার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।