শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনের আঘাতে দুই সুপারট্যাংকারে আগুন, জাহাজ ছেড়েছেন নাবিকেরা: আইআরজিসির দাবি

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে ‘অনুমোদনহীন রুটে’ চলার সময় নৌমাইনে আঘাত পেয়ে দুটি সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও আগুন ধরেছে।

হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে নৌমাইনে আঘাত পেয়ে দুটি সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। শুক্রবার দেওয়া এই বিবৃতি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রচারিত হয়েছে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং আমার দেশ বিবৃতির বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটি প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে ‘অনুমোদনহীন রুটে’ চলাচলের চেষ্টা করছিল। এ সময় ইঞ্জিনকক্ষে বিস্ফোরণ ও তীব্র আগুন ধরে যায়। এতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্যাংকার দুটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং সাগরে আটকা পড়ে। পরে নাবিকেরা জাহাজ দুটি ছেড়ে চলে যান বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, জাহাজ দুটিতে সম্মিলিতভাবে ৪৫ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ছিল। এটি ইরানের সামরিক বাহিনীর একতরফা বিবৃতি; জাহাজ দুটির নাম, মালিকানা, পতাকা, নাবিকদের অবস্থা কিংবা হতাহতের বিষয়ে আনাদোলু ও আমার দেশের প্রতিবেদনে কোনো তথ্য নেই। স্বাধীন সূত্রে ঘটনার নিশ্চিতকরণও এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান বারবার সতর্ক করে বলেছে, তাদের বিবেচনায় ‘অননুমোদিত’ রুট দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। জলপথটির নিয়ন্ত্রণ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা চলছে।

আনাদোলু জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধবিরতি ও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির জন্য একটি সমঝোতা স্মারক থাকলেও সংঘাত এখনো মেটেনি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপরও পড়ে।