আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা আগা খান আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ এ বছর মোট সাতটি প্রকল্পকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে বাংলাদেশের ‘খুদি বাড়ি’ বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে। বাঁশ ও স্টিলের কাঠামোয় নির্মিত এই মডুলার ঘরটি সহজে খোলা-জোড়া যায়, যা মাত্র তিনজন মানুষ সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে তৈরি করতে পারেন।
‘খুদি বাড়ি’ দুই স্তরের: নিচতলায় থাকে বসবাস ও সামাজিক কার্যক্রমের জায়গা, আর উপরের অংশ ঘুমানোর জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বন্যাকালে নিরাপদ আশ্রয়ে রূপ নেয়। ছাদে টিন ব্যবহার করা হয়েছে সহজ পরিবহন ও রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে, আর দেয়াল স্থানীয় উপকরণ দিয়ে বানানো যায়। এর নকশা বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বাড়ির স্থাপত্যকে ধারণ করলেও এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় অত্যন্ত কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থপতি মারিনা তাবাসসুম বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্থপতি, যিনি ভূমি, মানুষ ও জলবায়ু—এই তিনটি উপাদানকে কেন্দ্র করে কাজ করেন। তিনি এর আগে বেইতুর রউফ মসজিদ নকশার জন্য ২০১৬ সালে আগা খান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়। এবারও তার নেতৃত্বাধীন Marina Tabassum Architects-এর এই প্রকল্প দেখিয়েছে কিভাবে স্থাপত্য কেবল একটি ভবন নয়, বরং মানুষের জীবনে টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে।
মারিনা তাবাসসুম বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি হার্ভার্ড ও ইয়েলসহ বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি বক্তা হিসেবে স্থাপত্য ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। খুদি বাড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, স্থাপত্য কেবল নান্দনিকতা নয়, বরং মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি সামাজিক হাতিয়ার।
এই প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বন্যাপ্রবণ এলাকায় বাস্তবায়িত হয়েছে এবং রোহিঙ্গা শিবিরেও কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নারী কৃষকদের জন্যও এর ওপর ভিত্তি করে একাধিক অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে।
আগা খান আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ডে ‘খুদি বাড়ি’র স্বীকৃতি কেবল একটি স্থাপত্য পুরস্কার নয়, বরং বাংলাদেশের জলবায়ু সংগ্রাম ও মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ের এক প্রতীক। স্থপতি Marina Tabassum আবারও প্রমাণ করেছেন, স্থাপত্যের শক্তি মানুষকে বাঁচানোর এবং সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সক্ষমতা রাখে।