বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রাথমিক জরিপে স্পষ্ট বিজয়ী নেই: নেতানিয়াহুর জোট ৫০, বিরোধী জোট ৫৩ আসনে এগিয়ে, আরব দলগুলো ১৭

ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত প্রাথমিক এক্সিট পোলে ১২০ আসনের নেসেটে কোনো পক্ষই ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না; সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত প্রাথমিক এক্সিট পোলে কোনো পক্ষেরই স্পষ্ট জয়ের ইঙ্গিত মেলেনি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় (গ্রিনিচ মান্ডলে রাত ৮টা) ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর দেশটির টিভি চ্যানেলগুলো এসব প্রাথমিক আভাস প্রকাশ করে। এক্সিট পোল সরকারি ফল নয়।

একটি টিভি চ্যানেলের এক্সিট পোলে ১২০ আসনের নেসেটে (পার্লামেন্ট) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫৩টি এবং আরব দলগুলো ১৭টি আসন পাচ্ছে। দেশটির প্রধান তিন টিভি চ্যানেলের জরিপে বিরোধী জোট ৫২ বা ৫৩টি আসন এবং নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস এসেছে। সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১ আসন; সেখান থেকে দুই পক্ষই দূরে।

জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ সবচেয়ে বড় একক দল হিসেবে ২৪ বা ২৫ আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। গত নির্বাচনে দলটির আসন ছিল ৩২। আরব দল রাম ও জয়েন্ট লিস্ট মিলে ১৭ বা ১৮টি আসন পেতে পারে; ইসরায়েলের পার্লামেন্টে এটি আরব সদস্যদের জন্য রেকর্ড সংখ্যা হবে বলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। দল দুটি বিরোধী জোটের অংশ নয়, তবে তাদের সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে খোলা মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।

ভোটগ্রহণের দিন ভোটার উপস্থিতি ছিল বেশি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত ৭৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৮১ জন যোগ্য ভোটারের মধ্যে ৫৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৭৭ জন ভোট দিয়েছেন; উপস্থিতি ৭৪ দশমিক ৩ শতাংশ। অনেক ভোটার এ নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন।

এক্সিট পোলের পর আইজেনকোট বলেন, এই ফল প্রধানমন্ত্রীর প্রতি “সম্পূর্ণ অনাস্থা” প্রকাশ করছে। আরেক বিরোধী নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ নেতানিয়াহুর “বিধ্বংসী পরাজয়” হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রচারণার সময় আইজেনকোটের জোটের অনেক শরিক আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গড়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন; অথচ ওই দলগুলোর সমর্থন ছাড়া বিরোধী জোটের পক্ষে সরকার গঠন কঠিন হতে পারে।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে কয়েক দিন লাগতে পারে, কারণ সৈনিকদের প্রায় পাঁচ লাখ ভোট সপ্তাহের পরের দিকে গণনা করা হবে। জোট গঠনের আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী পদে থাকছেন। প্রথা অনুযায়ী সবচেয়ে বড় দলকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে।