শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পেছাল, নতুন সময় ২০২৯ সালের নভেম্বর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্লেনারি সভায় কোনো আপত্তি ছাড়াই বাংলাদেশ ও নেপালের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সময় তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ আরও তিন বছর পিছিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। ফলে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য দেশটি আরও তিন বছর সময় পেল।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১টায় শুরু হওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্লেনারি সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান।

বৈঠকের শুরুতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট জি-৭৭-এর পক্ষে উরুগুয়ের প্রতিনিধি বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কোনো দেশের প্রতিনিধি এর বিরোধিতা করেননি। ফ্রান্স, কানাডা ও আয়ারল্যান্ডের (ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে) প্রতিনিধিরা সময় পেছানোর বিষয়ে সমর্থন দিয়ে বক্তব্য দেন। তবে তাঁদের সবাই বাংলাদেশে সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন।

প্রক্রিয়ার ধাপগুলো ছিল এমন: প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ পাঠায়। এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) আবেদন পর্যালোচনা করে মত দেয়, বাংলাদেশ ও নেপালের অনুরোধ সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা উচিত।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমল পর্যন্ত ২০২৬ সালেই উত্তরণের নীতিতে অনড় থাকা হয়েছিল। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়। সরকারের যুক্তি ছিল, সময় বাড়লে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, চলমান সংস্কার সংহত করা এবং স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির অধীনে অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম শেষ করার নীতিগত সুযোগ মিলবে।

জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে সরকার বলেছে, পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল একের পর এক দেশি-আন্তর্জাতিক সংকটে ‘গুরুতরভাবে ব্যাহত’ হয়েছে। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে কভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বাণিজ্যব্যবস্থার অনিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। দেশি সংকটের মধ্যে আছে আর্থিক খাতের অনিয়ম, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এখনো নিষ্পত্তি না হওয়া।

১৯৭৫ সালে এলডিসিভুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে বাংলাদেশ উত্তরণের তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছিল। করোনার কারণে আগেই উত্তরণ দুই বছর পিছিয়ে ২০২৬ সালে ঠিক হয়েছিল।