শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বেসরকারি খাতে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা আসতে পারে জাপানের

নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের কথা তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দেশটির বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা আসতে পারে। জাপানের দৈনিক নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনের বরাতে ইত্তেফাক ও ঢাকা ট্রিবিউন এ খবর দিয়েছে। ইত্তেফাকের হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটি প্রায় ৭৭ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এই বিনিয়োগ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ থাকতে পারে। ইত্তেফাক লিখেছে, নিক্কেইর প্রতিবেদনে এ অর্থায়নে জাপান সরকারের ইতিবাচক সায় থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে দুই দেশের কোনো সরকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে, এমন তথ্য প্রতিবেদন দুটিতে নেই।

কোন খাতে বিনিয়োগ

নিক্কেইর বরাতে দুই পত্রিকা জানিয়েছে, বিনিয়োগ যাবে মূলত অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন উৎপাদনশিল্পে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনা নির্মাণে। জাপানি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ কয়েকটি পক্ষ মিলে যে ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন’ গড়ে তুলছে, সেখানে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোও এর আওতায় থাকতে পারে।

সফরসূচি ও সমঝোতা স্মারক

ইত্তেফাক জানিয়েছে, চার দিনের সরকারি সফরে ২৬ অক্টোবর জাপানের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৭ অক্টোবর টোকিওতে তাকাইচির কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে, পরে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।

পত্রিকাটি পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের বরাতে লিখেছে, সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো ও ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে বিশেষ জোর থাকবে। কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও বেসামরিক বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যার তিন-চারটি সই হতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, প্রযুক্তি ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়বে বলেও আশা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে গত ফেব্রুয়ারিতে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) সই করেছে বাংলাদেশ। মেট্রোরেল, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো বড় প্রকল্পে জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী।