রাজশাহীর চারঘাটে রাতের অন্ধকারে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। গ্রামীণ সড়কের পাশের গাছের পর এবার পদ্মা-বড়াল নদীর তীর রক্ষা বাঁধের গাছও কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, গত দুই বছরে অন্তত পাঁচ হাজার গাছ কাটা পড়েছে। অথচ এসব ঘটনায় কোনো দপ্তরের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি গাছ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, তিনি পাঁচ বছর ধরে একই উপজেলায় কর্মরত থাকায় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। তবে ওই কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চারঘাটের বিভিন্ন সড়ক ও নদীর তীরের প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় সামাজিক বনায়নের প্রায় এক লাখ গাছ আছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) লাগানো আরও প্রায় ২০ হাজার গাছ রয়েছে। এসব গাছের বয়স পাঁচ থেকে ৩০ বছর। ২০০৯ সালে বড়াল নদীর উৎসমুখ খননের পর পদ্মা-বড়াল মোহনায় খয়ের, মেহগনি ও কড়ইসহ পাঁচ হাজারের বেশি গাছ লাগানো হয়েছিল। নদীভাঙন ঠেকানো ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গড়ে ওঠা এই বনায়ন এখন গাছচোরদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিনে মোহনা এলাকায় কাটা গাছের গুঁড়ি ও গাছ বহনের যানবাহনের চিহ্ন দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষক মোক্তার হোসেন বলেন, রাত হলেই একটি চক্র এসে বড় গাছ কেটে নিয়ে যায়, অথচ বন বিভাগের লোকজন নিয়মিত নজরদারি করেন না। সামাজিক বনায়ন সমিতির সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, গাছ কাটতে আসা লোকজনের কাছে দেশীয় অস্ত্র থাকায় স্থানীয়রা বাধা দিতে সাহস পান না; বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্রটি রাত একটা থেকে ভোর চারটার মধ্যে সক্রিয় থাকে। বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে বড় গাছ কেটে ছোট ট্রাক ও ভ্যানে করে আশপাশের করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়। ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের বাঁকড়া বাজার-রায়পুর সড়কের পাশের মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগও আছে। হাবিবপুর-মৌলভাগ-বাসুদেবপুর সড়ক প্রশস্ত করার সময় দরপত্র ছাড়াই প্রায় ৩০০ গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
উপজেলা বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চারঘাটে ৩৮টি করাতকলের মধ্যে মাত্র ১৩টির সরকারি অনুমোদন আছে; বাকি ২৫টি অনুমোদন ছাড়াই চলছে। স্থানীয়দের মতে, এসব করাতকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় চোরাই গাছ বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি গাছ নিয়ম মেনে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে নতুন গাছ লাগানো দরকার। না হলে প্রতিদিন গাছ কাটা চলতে থাকলে একসময় সড়কের দুই পাশ বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়বে।