২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর ভাটারায় এক আন্দোলনকারীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বি এম মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম দুই পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে যা হলো
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের বরাতে নয়া দিগন্ত জানায়, এদিন পুলিশ তাঁকে কারাগার থেকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান গত ২৭ অক্টোবর তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ আবেদনের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন মিয়াসহ কয়েকজন তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখানোর আরজি জানান।
দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন এবং পরে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদেশের বিষয়টি আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন মিয়া নিশ্চিত করেছেন বলে বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে। বাসসের ভাষ্য, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল।
মামলার অভিযোগ
এজাহারের বরাতে প্রতিবেদনগুলো বলছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাদী ভাটারা থানার ১০০ ফুট সড়ক এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন। তখন তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চারটি গুলি লাগে। চিকিৎসা শেষে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি তিনি ভাটারা থানায় হত্যাচেষ্টার মামলাটি করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেককে আসামি করা হয়; মোজাম্মেল হক এজাহারে নাম থাকা আসামিদের একজন।
বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৫ অক্টোবর রাজধানীর নিকেতন থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে, তখন থেকে তিনি কারাগারে আছেন। বাংলা ট্রিবিউন জানায়, তিনি এর আগেই একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। নতুন এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শুনানিতে বিরোধিতার বাইরে অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের আলাদা কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনগুলোতে আসেনি।