রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহে বিক্ষোভ, সংঘর্ষে ৫৬৫ জন গ্রেপ্তার; জার্মানির ৩৪ শহরে তরুণদের কর্মসূচির ঘোষণা

জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষাব্যবস্থা ও ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ ঘিরে ফ্রান্সের বিক্ষোভে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ে অসন্তোষ ঘিরে বিক্ষোভ মিছিলের পর রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষের পর দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবার দেশজুড়ে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। ১৭ অক্টোবর দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো এই বিক্ষোভ হলো। ওই দিন দেশজুড়ে বিভিন্ন দোকান, সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর হয়েছিল। তবে আগের দুই শনিবারের তুলনায় এবার বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কম ছিল।

বিকেল পর্যন্ত মিছিলগুলোর বেশির ভাগই শান্তিপূর্ণ ছিল। মিছিলের শেষ দিকে প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ অভিযান চালায়। লিওঁ ও তুলুজে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। মার্সেইয়ে মিছিলের শেষ দিকে উত্তেজনা দেখা দিলেও রাত নামার সঙ্গে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, যাঁরা রাতে সংঘর্ষে জড়াতে চান, তাঁদের মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত এবং কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন শহরের বিক্ষোভ থেকে ৫৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চার পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

প্যারিসের এক বিক্ষোভকারী জেরোম রদ্রিগেজ বলেন, ফ্রান্সের অর্থনীতির অবস্থা খারাপ, কারণ দেশ চালাচ্ছে একদল অযোগ্য মানুষ। তাঁর ভাষ্য, সরকার কোটি কোটি ইউরোর হিসাব করছে, অথচ সাধারণ পরিবারগুলো সামান্য কয়েক সেন্টের জন্য হিমশিম খাচ্ছে।

ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতির বিরুদ্ধে প্রথমে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। পরে তাঁদের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠন যোগ দেয় এবং নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনও। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকারের জন্য সংবেদনশীল সময়ে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ ফ্রান্সের ঋণের ভবিষ্যৎ অবস্থান অপ্রত্যাশিতভাবে ‘নেতিবাচক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ বছর তরুণদের নেতৃত্বে একের পর এক বিক্ষোভ হয়েছে। জার্মানিতে ‘জেন-জি রেগেল্ট’ নামের একটি প্রচারগোষ্ঠী শনিবার বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ ৩৪টি শহরে কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। আয়োজকদের হিসাবে এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এতে অংশ নিতে পারেন। তাঁদের দাবি, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা, শিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। জার্মান কর্তৃপক্ষ কর্মসূচিগুলো মোটামুটি শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে ধারণা করলেও সতর্ক করেছে যে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে।