নেপালে অনুষ্ঠিত প্রথম সাওরাহা ইন্টারন্যাশনাল ওপেন তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপে দুটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও তিনটি তাম্রপদক জিতেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বর্তমান ও সাবেক ছয় শিক্ষার্থী। রাজশাহীর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পদ্মা টাইমস সোমবার (২ নভেম্বর) এ খবর দিয়েছে। পদকজয়ীদের নাম ও ফলাফলের তথ্য পদ্মা টাইমসের প্রতিবেদন থেকেই নেওয়া।
পদ্মা টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর নেপালের চিতওয়ান জেলার সাওরাহায় এই প্রতিযোগিতা হয়। অস্ট্রেলিয়া ও মালদ্বীপসহ ৯টি দেশের প্রায় ৫০০ খেলোয়াড় কিয়োরুগি (লড়াই) ও পুমসে (কৌশল প্রদর্শন) বিভাগে অংশ নেন।
কে কোন পদক পেলেন
স্বর্ণ জিতেছেন ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাহীন আলী এবং চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রিদওয়ান তাসকিন রাতুল। শাহীন রাবি তায়কোয়ানডো ক্লাবের সভাপতি এবং আন্তঃবিভাগীয় প্রতিযোগিতায় টানা দুবারের গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন। রাতুল এখন রাজশাহীর এআরসি গ্লোবাল তায়কোয়ানডো অ্যাকাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক; ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি তায়কোয়ানডো ফেস্টিভ্যালে তিনি রৌপ্য জিতেছিলেন। তাঁরা কোন বিভাগে স্বর্ণ পেয়েছেন, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ নেই।
রৌপ্যপদক পেয়েছেন বাংলা বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নাঈম আলী। তিনি ৩৩ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মাস্টার ক্যাটাগরিতে ব্যক্তিগত পুমসে বিভাগে লড়েছেন। নাঈম রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষক এবং একটি তায়কোয়ানডো একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক।
তাম্রপদক পেয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সাবাহ কানেতা তারিক, একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের কামরুজ্জামান এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মরিয়ম। তিনজনই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্বর্ণজয়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের তায়কোয়ানডো ক্লাবে সাবাহ সহসভাপতি, কামরুজ্জামান প্রচার সম্পাদক ও মরিয়ম ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।
যাত্রার আগে তালিকায় ছিলেন পাঁচজন
দলের কোচ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক কামরুজ্জামান চঞ্চল, যিনি বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো জাতীয় দলের সাবেক কোচ। প্রতিযোগিতার আগে ৩০ অক্টোবর দৈনিক আমার দেশ জানিয়েছিল, রাবির বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে পাঁচ শিক্ষার্থী সেদিন ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন। ওই তালিকায় শাহীন, সাবাহ, কামরুজ্জামান, মরিয়ম ও রাতুলের নাম ছিল; নাঈম আলীর নাম ছিল না। পদ্মা টাইমসের ফলাফলের প্রতিবেদনে তাঁকে ষষ্ঠ পদকজয়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পদকজয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো খবর বা বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়নি।